দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

মানিকগঞ্জের শিবালয়, ঘিওর, দৌলতপুর ও হরিরামপুর উপজেলার পদ্মা ও যমুনা নদীপথে দিন দিন বেড়েই চলেছে জলদস্যুদের দৌরাত্ম্য। প্রতিদিন শত শত বালুবোঝাই বাল্কহেড ও পণ্যবাহী নৌযান থামিয়ে প্রকাশ্যে চাঁদাবাজি, ছিনতাই এবং শ্রমিকদের ওপর নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে সংঘবদ্ধ একটি চক্রের বিরুদ্ধে। এতে নদীপথে চলাচলকারী শ্রমিক, চালক ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে।
শনিবার (২৫ জুলাই) চাঁদাবাজি ও নৈরাজ্যের প্রতিবাদে নদীপথে চলাচলকারী বাল্কহেড ও নৌযান মালিকরা মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেন। কর্মসূচিতে বক্তারা অবিলম্বে জলদস্যুদের বিরুদ্ধে কঠোর অভিযান এবং নিরাপদ নৌপথ নিশ্চিত করার দাবি জানান।
মানববন্ধনে বাংলাদেশ বাল্কহেড মালিক সমিতির নেতারা অভিযোগ করেন, হরিরামপুর উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি হান্নান মৃধার নেতৃত্বে একটি সংঘবদ্ধ চক্র দীর্ঘদিন ধরে নদীপথে চাঁদাবাজি চালিয়ে আসছে। তারা একটি কথিত ইজারার নামে প্রতিটি বাল্কহেড থেকে ৩ হাজার থেকে ১৫ হাজার টাকা পর্যন্ত আদায় করছে। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে চালক, হেলপার ও শ্রমিকদের মারধরসহ বিভিন্নভাবে নির্যাতন করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করা হয়।
বক্তারা আরও অভিযোগ করেন, বিআইডব্লিউটিএর কিছু অসাধু কর্মকর্তার যোগসাজশে এই চক্র বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। প্রশাসনের নিরবতা ও দুর্বল তৎপরতার কারণেই জলদস্যুরা দিন দিন আরও শক্তিশালী হচ্ছে বলেও তারা দাবি করেন।
স্থানীয় সূত্র ও ভুক্তভোগীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, মানিকগঞ্জের শিবালয়, ঘিওর, দৌলতপুর, হরিরামপুর এবং সিরাজগঞ্জের বিভিন্ন এলাকা থেকে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ বালু দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সরবরাহ করা হয়। এই রুটে চলাচলকারী বাল্কহেডগুলোই এখন জলদস্যুদের প্রধান লক্ষ্যবস্তু।

অভিযোগ রয়েছে, প্রতিদিন ৬ থেকে ৮টি ইঞ্জিনচালিত নৌকা ও স্পিডবোটে করে ১০ থেকে ১২ জনের সশস্ত্র দল নদীতে অবস্থান নেয়। তাদের হাতে থাকে আগ্নেয়াস্ত্র, রামদা, হাসুয়া ও লাঠিসোটা। তারা চলন্ত বাল্কহেড থামিয়ে জোরপূর্বক চাঁদা আদায় করে। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে শ্রমিকদের মারধর, মানিব্যাগ ও নগদ টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনাও ঘটছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন বাল্কহেডের শুকানি জানান, পদ্মা-যমুনা নদীপথে প্রবেশ করতেই কয়েকটি স্পিডবোট এসে বাল্কহেড ঘিরে ফেলে। এরপর সশস্ত্র লোকজন জাহাজে উঠে ৩ হাজার থেকে ১৫ হাজার টাকা দাবি করে। টাকা না দিলে স্টাফদের মারধর করা হয় এবং তাদের কাছে থাকা টাকা-পয়সা ও মূল্যবান সামগ্রী ছিনিয়ে নেওয়া হয়।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে প্রশাসন এসব কর্মকাণ্ড সম্পর্কে অবগত থাকলেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। ফলে নৌপথে চলাচলকারী শ্রমিক ও ব্যবসায়ীরা প্রতিনিয়ত জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাজ করছেন।
এ বিষয়ে পাটুরিয়া নৌ পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কেএম নজরুল ইসলাম বলেন, সম্প্রতি এমন অভিযোগের ভিত্তিতে কয়েক দফা অভিযান পরিচালনা করে কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। নতুন করে কোনো লিখিত অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তবে স্থানীয়দের দাবি, প্রশাসন নিয়মিত অভিযানের আশ্বাস দিলেও নদীপথে জলদস্যুতা ও চাঁদাবাজি বন্ধে এখনো দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি দেখা যাচ্ছে না।
বাংলাদেশ বাল্কহেড মালিক সমিতির কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি হাজী মো. মারফত আলী মিজি বলেন, নদী পথে ইজারার নামে যে চাঁদাবাজি হচ্ছে তা অবৈধ। যদি এই চাঁদাবাজি বন্ধ না করা হয় তাহলে কঠিন আন্দোলনে যাওয়ার হুশিয়ারিও দেন তিনি।
সমিতির সাধারণ সম্পাদক সবুজ সিকদার মাস্টার বলেন, এ বিষয়ে নৌ মন্ত্রনালয়সহ বিভিন্ন দপ্তরে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে। বর্মান সরকার এ বিষয়ে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নিবেন এমনটাই প্রত্যাশা করেন তিনি। এছাড়া চাঁদাবাজির কারনে তাদের ব্যবসা বন্ধ করে দিতে হবে বলেও জানান তিনি।
নৌযান মালিক ও শ্রমিকদের দাবি, পদ্মা-যমুনা নদীপথে সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজি বন্ধে নিয়মিত যৌথ অভিযান, দায়ীদের দ্রুত গ্রেপ্তার এবং নিরাপদ নৌ-চলাচল নিশ্চিত না হলে দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথে বালু ও পণ্য পরিবহন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হবে।
কেএম